শিক্ষার্থী সঙ্কটের কারণে সরকার একযোগে বিপুলসংখ্যক বেসরকারি ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি) ও মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুলের (ম্যাটস) অনুমোদন অনুমোদন বাতিল করেছে। টানা তিন বছর কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি না হওয়ায় ওসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ম্যাটস ও আইএইচটি কোর্স চালুর পর এর আগে কখনো একসঙ্গে এতো প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন বাতিল হয়নি। তবে সরকারের এ উদ্যোগে চিকিৎসা শিক্ষা খাতে শৃঙ্খলা ফিরলেও দীর্ঘ মেয়াদে দেশে স্বাস্থ্য প্রযুক্তিবিদ ও টেকনিশিয়ানের সংকট আরো তীব্র হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ অননুমোদিত ও ভুয়া স্বল্পমেয়াদি কোর্সের বিস্তার ঘটতে পারে। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সরকারিভাবে বিগত ১৯৭৬ সালে দেশে ম্যাটস বা ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল ফ্যাকাল্টি (ডিএমএফ) কোর্স চালু হয়। আর বিগত ২০০৭ সালে বেসরকারি পর্যায়ে ম্যাটস ও আইএইচটি চালু হয়। দেশে ৩০৩টি বেসরকারি ম্যাটস ও আইএইচটি ছিল। ওসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে গত তিন বছরে ১৮৬টি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি। সেজন্য বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদের গভর্নিং বডি গত জুলাই মাসে ৭২টি আইএইচটি ও ১১৪টি ম্যাটসের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়। পরে গত ডিসেম্বরে ওসব প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন বাতিল করে মন্ত্রণালয়। চলতি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে সরকারি ও বেসরকারি আইএইচটি ও ম্যাটসে আসন রয়েছে প্রায় ২৭ হাজার। তবে চলতি সেশনে পরীক্ষায় ৯ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তার মধ্যে মাত্র ৭ হাজার শিক্ষার্থী ৪০ নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে।
সূত্র জানায়, কঠোর ভর্তি নীতিমালায় শিক্ষার্থী সংকট তীব্র হয়েছে। আগে ভর্তি পরীক্ষায় ২৫ নম্বর পেলেই ভর্তি হওয়া গেলেও এখন তা বাড়িয়ে ৪০ নম্বর করা হয়েছে। তাতে উত্তীর্ণ হতে পারছে না অনেক শিক্ষার্থী। আর তার প্রভাব বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পড়ে। এখন একযোগে বিপুলসংখ্যক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ায় অনিয়ন্ত্রিত ও অনুমোদনহীন ছয় মাসের কোর্স বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেকে গ্রামাঞ্চলে চিকিৎসাসেবায় যুক্ত হবে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
সূত্র আরো জানায়, অনুমোদন বাতিল হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল টেকনোলজি, বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ ইনস্টিটিউট, জনতা ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল টেকনোলজি, রেডিয়েন্ট কলেজ অব মেডিকেল টেকনোলজি, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল টেকনোলজি, প্রাইম ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল টেকনোলজি, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল টেকনোলজি, ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল টেকনোলজি, প্রিন্স ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল টেকনোলজি, জালকুড়ি ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল টেকনোলজি, কমপ্যাক্ট মেডিকেল ইনস্টিটিউটসহ অনেক প্রতিষ্ঠান।
এদিকে আইএইচটি ও ম্যাটসের পরীক্ষা ও ফল প্রস্তুতের দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদের সচিব ডা. সাইফুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরেই ওসব প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থী পাচ্ছিল না। একাধিক বৈঠকের মাধ্যমে ১৮৬টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা করে সিদ্ধান্ত নেয়ার সুপারিশ করা হয়। পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সব দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়।
অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য সচিব সাইদুর রহমান জানান, তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনুমোদন বাতিলের চিঠি দেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে অনুমোদনের ক্ষেত্রে আরো কঠোর মানদণ্ড অনুসরণ করা হবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata
শিক্ষার্থী সঙ্কটে বিপুলসংখ্যক বেসরকারি আইএইচটি-ম্যাটসের অনুমোদন বাতিল
- আপলোড সময় : ২১-০১-২০২৬ ১০:২৭:৩৩ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২১-০১-২০২৬ ১০:২৭:৩৩ অপরাহ্ন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
স্টাফ রিপোর্টার